গত পাঁচ বছরে (২০২০-২৪) ভারতীয় সমুদ্রবন্দর থেকে ১১ হাজার ৩০০ কোটি রুপির অবৈধ মাদক জব্দ করা হয়েছে। যার প্রায় ৬৫ শতাংশ পাওয়া গেছে গুজরাটের বন্দরগুলোয়। মূলত মুন্দ্রা, পিপাভাভ, মুম্বাই, টুটিকোরিন ও কলকাতা বন্দর হয়ে মাদক প্রবেশ ঘটেছে বলে জানায় নয়াদিল্লি। এছাড়া মুন্দ্রা, গান্ধিধাম ও রায়গড়ে অবস্থিত কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন থেকেও কিছু মাদক জব্দ হয়েছে। খবর দ্য হিন্দু।
ভারতের রাজ্যসভায় গত সপ্তাহে এ সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন হয়। সেখান থেকে দেখা যাচ্ছে, সর্বশেষ পাঁচ বছরে ভারতের পাঁচটি প্রধান বন্দর ও তিনটি কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কেজি অবৈধ মাদক জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই গুজরাতে জব্দ হয়েছে, যার মূল্য ৭ হাজার ৩৮৩ কোটি রুপি। এতে এগিয়ে আছে মুন্দ্রার আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন। এখান থেকে জব্দ হয়েছে ৬ হাজার ৩৮৬ কোটি রুপির মাদক।
অন্য উল্লেখযোগ্য জব্দের মধ্যে রয়েছে মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্টে বিভিন্ন বাহিনীর অভিযান, যেখানে পাঁচ বছরে ২ হাজার ২৮৪ কোটি রুপি মূল্যের অবৈধ মাদক জব্দ হয়েছে। তামিলনাড়ুর তুটিকোরিনে অবস্থিত ভি ও চিদাম্বরনর পোর্টে জব্দ হয়েছে ১ হাজার ৫১৫ কোটি রুপির মাদক।
ডিআরআই, কাস্টমস, গুজরাত এটিএস, মহারাষ্ট্র পুলিশ ও দিল্লি পুলিশ এসব কনসাইনমেন্ট জব্দ করেছে, যেখানে রয়েছে হেরোইন, কোকেইন, মেথামফেটামিন এবং ট্রামাডল ট্যাবলেট ও ইনজেকশন। ২০২৪ সালে মুন্দ্রা ও কলকাতার কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন থেকে যথাক্রমে ৭১ লাখ ৩২ হাজার ট্রামাডল ট্যাবলেট ও এক হাজার ট্রামাডল ইনজেকশন জব্দ করা হয়েছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব জব্দের ঘটনায় অন্তত ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময়কালের ১৯টি মামলা বিভিন্ন তদন্ত ও বিচারাধীন পর্যায়ে রয়েছে।